চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেন সুবির নন্দী

/
/
/
270 Views
img

দেশের বরেণ্য সংগীত শিল্পী সুবির নন্দী আর নেই। সংগীত জগৎ এর এক সমৃদ্ধশালী মহাপুরুষ আজ আমাদের জীবন থেকে চির বিদায় নিলেন।বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের সুস্থ সুন্দর গান মানেই সুবির নন্দী। বাংলা গানের আর্কাইভে প্রায় আড়াই হাজার গান আছে সুবির নন্দীর।এটা একটা বড় অবদান একজন শিল্পীর জীবনে।

গত ১৪ এপ্রিল রাতে তার পরিবার সহ সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরার সময় সুবির নন্দীর হঠাৎ তার শারীরিক অবসস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে ট্রেন থেকে নেমে একটি অ্যাম্বুলেন্স করে সিএমএইচে নেওয়া হয়েছিল।

পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায় যে, উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসা করার পরে তার কিছুটা উন্নতি হয়। কিন্তু পরে আবার তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে। আরো জানা যায় যে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা চলাকালিন সুবির ন্দীর তিনবার হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এর আগে ও ঢাকায় চিকিৎসাধীনে সুবির নন্দীর একবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

সুবির নন্দীর রয়েছে সুদীর্ঘ ৪০ বছরের সঙ্গীত ক্যারিয়ার। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি গেয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার গান। প্রথমে গান করতেন বেতারে পরে বেতার থেকে চলচ্চিত্রে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। তার প্রথম কেকর্ডিংয়ের অ্যালবাম বাজারে আসে ১৯৮১ সালে। তারপর ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত “সূর্যগ্রহণ” চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম গান করেন।

সুবির নন্দীর কিছু কাল জয়ী গান

“দিন যায় কথা থাকে”, ” আমার এ দুটো চোখ পাথর তো নয়, তবু ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়”, “আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি, আমার আর কান্নার ভয় দেখিয়ে লাভ নেই”, “একটা ছিল সোনার কন্যা মেঘ বরণ কেশ”, এরকম কাল জয়ী আরো অনেক গান অমর করে রাখবেন আমাদের এই প্রিয় শিল্পীকে।

একুশে পদকসহ পাঁচ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরুষ্কার পেয়েছেন এই বর্ণাঢ্য শিল্পী।

সুবির নন্দী চলচ্চিত্র থেকে চার বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। সংগীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দেশের দ্বিতীয় সবোর্চ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক সুবির নন্দীকে ভূষিত করা হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This div height required for enabling the sticky sidebar
Ad Clicks : Ad Views :