img

স্টোক হলে কিভাবে বুঝবেন? জেনে নিন স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষন গুলো

/
/
/
271 Views

চিকিৎসা বিজ্ঞানে স্টোক-এর অর্থ হলো প্রকট স্নায়ু রোগ।মস্তিষ্কের কোষগুলোর কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিরবচ্ছিন্ন রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ।মস্তিষ্কেই পুরো দেহের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং গ্লকোজের সরবরাহ পায়।কোন কারণে এই সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে সে অংশির কোষগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে,চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হলো স্টোক নামে পরিচিত।

মানুষের স্টোক হবার পর এরকম শরীরের এক পাশ অচল হবার নাম হেমিপ্লেজিয়া আর অবশ হলে আমরা বলি হেমিপেরেসিস। অনেকে মনে করেন যে স্টোক হলেই যে শরীরের কোনো অংশ চিরতরে অচল হয়ে যাবে না তা কিন্তু না।আবার কিছু ধরনেরর স্টোক আছে যেগুলো সাময়িক আর কিছু অসুবিধার পরে তা আবার সুস্থ হয়ে যায়।

স্টোক কি কারণে হতে পারে    

অতিরিক্ত টেনশন করলে

যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাদেরও স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ যা মানবদেহে বড়ধরণের ক্ষতির চাপ সৃষ্টি করে ।বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড প্রেশার থাকলে স্ট্রোকের মাত্রা আরোও বাড়িয়ে তোলে।

স্ট্রেস ও ডিপ্রেশন সহ অন্যান্য মানসিক সমস্যা থাকলেও এই সমস্যার সম্ভাবনা থাকে।

যারা দিনভর করে কাজ করেন, হাঁটা চলা একদম করেনা তাদের ক্ষেত্রে বেশি করে থাকে।তাদের স্ট্রোকের ঝুকিঁ অন্যদের থেকে বেশি।

স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ গুলো হলো

স্ট্রোক বিষয়ে আমরা সবাই অবগত না। কখন কি করতে হবে। তাই স্ট্রোক হওয়ার আগে স্ট্রোকের লক্ষণগুলো চিনতে পারলে এবং দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারবেন।রোগীকে মারাত্মক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন। এক সাথে কয়েকটি লক্ষণের মাধ্যমে স্ট্রোক কি না বুঝতে পারবেন।

১. প্রচন্ড মাথা ব্যথা অনুভব করাঃ

যদি আপনি বুঝেন যে, অতীতের মাথা ব্যথার তুলনায় এখন দ্বিগুন মাথা ব্যথা করছে সহ্য করার মত না। তাহলে বুঝবেন যে আপনি স্ট্রোকের স্বীকার হয়েছন। কারন এই ধরনের মাথা ব্যথা হয় মস্তিষ্কে রক্তকরন হয়ে স্ট্রোক হলে। সাধারনত এই স্ট্রোকে হেমোরোজিক স্ট্রোক বলা হয়। তাই এই ধরনের সমস্যার পড়লে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া।

২। কথা বলার অস্পষ্টতাঃ

যদি কথা বলতে দেখা যায় অস্পষ্ট ভাবে কথা শুনা যাচ্ছে তাহলে এটা স্ট্রোকের লক্ষণ। কারণ মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া কোনো কারণে বাধাগ্রস্থ হলে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ নষ্ট হয়ে যায়।আমরা একেই বলে স্নায়ুকোষ রোগ বা স্ট্রোক । যাদের মুখের কথা জড়িয়ে আসে তাদের ক্ষেত্রে এরকম স্ট্রোক হওয়ার লক্ষণ বেশি হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: এই গরমে আপনার সোনামুনিকে কি ভাবে যত্ন নিবেন জানেন কি  (BABY’S CARE)

৩। শর্ট মেমোরি লসঃ

যদি দেখেন কেউ স্ট্রোক করে তাহলে দেখবেন তার পরিচিত মানুষ গুলোকে সে চিনবে না। আর একটি বিষয় হল তার স্থৃতিতে  অতীতের কোন কিছুই মনে থাকবে না। এমন কি তার নিজের নাম পর্যন্ত মনে তাকবে না। যদি রোগীকে এই রকম আচারন করতে দেখেন তাহলে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।

৪. মুখ বেকে যাওয়াঃ

স্ট্রোক চেনার আর একটি প্রধান উপায় হল স্ট্রোক করলে মুখের বাম পাশ বেকে যাবে। যদি আপনি দেখেন হঠাৎ করে আপনার মুখের একপাশ দিয়ে কিছুই করতে পারছেন না তাহলে বুঝবেন স্ট্রোকের লক্ষন। এই ধরনের সমস্যা হয় মূলত মুখের মধ্যে রক্ত চলাচলের স্নায়ুগুলো অক্সিজেন সরবরাহ করতে অচল হয়ে যাওয়াতে।

৫. শরীরে একপাশ অকেজো হয়ে যাওয়াঃ

স্ট্রোক চেনার আরও একটি উপায় হল, দেহের এক পাশ অসার হয়ে পড়বে। এই পাশ দিয়ে সে কিছুই করতে পারবেনা। সে তাও বুঝবেনা যে তার এ পাশ শরীরের মধ্যে আছে কি না। এটাকে মূলত প্যারালাইসিস বলা হয়। এই রকম লক্ষন দেখলে ডাক্তারে কাছে নিয়ে যেতে হবে।

৬. ঝাপসা দৃষ্টিঃ

যখন দেখেন হঠাৎ করে চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে তাহলে বুঝবেন স্ট্রোকের স্বীকার হচ্ছেন। কারন স্ট্রোক করলেই সাধারনত এই সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। এটা হয় মস্তিষ্কের যে জায়গায় থেকে দৃষ্টি নিয়ন্ত্রন করা হয় সেই জায়গায় অক্সিজেন কমে যাওয়াতে এমন হয়ে তাকে।

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This div height required for enabling the sticky sidebar